শান্তিপুরে মাঝ গঙ্গায় ভেসেলে আটকে বেশ কয়েকটা গাড়িতেই রাত্রিবাস বহু যাত্রীর,উদ্ধারে বিলম্বে ক্ষোভ যাত্রীদের

শান্তিপুর,নদীয়া: ভাগীরথী গর্ভে পলি পড়ার কারণে মাঝ গঙ্গায় ভেসেলে আটকে বেশ কয়েকটা গাড়িতেই রাত্রিবাস বহু যাত্রীর। উদ্ধারে বিলম্বে ক্ষোভ যাত্রীদের, রাজনৈতিক চাপানউতোর সাংসদ বিধায়কের। প্রবল এই ঠান্ডার মধ্যে ভাগীরথীর গর্ভে শুক্রবার রাত নটা থেকে শনিবার প্রায় সকাল ৬ টা পর্যন্ত আটকে পড়েছিলো শান্তিপুর গুপ্তি পাড়া যাত্রী পারাপার করার একটি ভেসেল। যার মধ্যে আটকে পড়েছিলো শান্তিপুর থেকে গুপ্তিপাড়া পার হয়ে বিভিন্ন হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাপড় এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের গাড়ি , শান্তিপুর বিডিওর গাড়ি, এবং চিকিৎসা বা অন্যান্য কারণে পারাপার হওয়া ব্যক্তিগত গাড়ি।

মূলত জল কমে যাওয়া এবং পলি পড়ার কারণে এই বিভ্রাট বলে জানা গেছে। তবে যাত্রীরা কেউ কেউ ভেসেল চালকের দোষ দেখলেও, চালকরা জানান রাত্রে জলের গভীরতা কোথায় আছে তা দেখা বা বোঝা সম্ভব হয় না অনেক সময়, যদি ভাসমান রোড ম্যাপ থাকতো তাহলে কিছুটা বোঝা সম্ভব হতো, আর স্থায়ী ব্যবস্থা করতে গেলে গঙ্গার পলি কাটানো ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।

অনেকই গিয়েছিল হাটে ,সেই হাট থেকে কাপড়ের গাড়ি নিয়ে লঞ্চে করে শান্তিপুরে ফেরার পথে তারা আটকে পড়েন । শান্তিপুর গুপ্তিপাড়া ফেরি ঘাটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা শ্যাম সাহা এ বিষয়ে জানান, মাল বিহীন যাত্রীদের একটি ছোট নৌকা করে উদ্ধার করা হয়েছিল গত রাতেই, দড়ি ধরে ওকে টেনে নিয়ে আসার জন্য বহু মানুষের দরকার ছিল যা আজ সকালে পাওয়া সম্ভব হয়েছে তাই এই বিলম্ব, তবে পাকাপাকি সমাধান করতে সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে বিষয়টি বারংবার জানালেও তিনি এই ব্যাপারে কোনো রূপ ব্যাবস্থা নেন নি এখনো পর্যন্ত। এ বাদেও বিধায়ক এবং জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে একাধিকবার।

যদিও বিধায়ক এ প্রসঙ্গে বলেন, উদ্ধার কার্যে কোনো গাফিলতি হয়নি, শেষ রাতে যখন জানতে পারি তাৎক্ষণিকভাবে আমার প্রতিনিধি, ঘাট রক্ষণাবেক্ষণের পক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হয়েছিলো। নাম না করলেও মূলত তিনি পলি কাটানোর বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব বলেই জানিয়েছেন, তবে সাধারণ মানুষের আবেদনের ভিত্তিতে তিনি রাজ্য সরকারের সাথে কথা বলতেও রাজি বলেই জানান।

সাংসদ জগন্নাথ সরকার অবশ্য গোটা বিষয়টি অমানবিক বলে দাবি করেন , তিনি বলেন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সাংসদ সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে ডাক পান না, দোষ ঘাড়ে চাপানোর সময় কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংসদকে খুঁজে পেয়ে যান। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম, পুলিশ প্রশাসন, সারাবছর লভ্যাংশ ঘরে তোলা ঘাট কর্তৃপক্ষর উদাসীনতায় এই দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের। তবে পলি কাটানোর বিষয়ে সিংহভাগ দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তা মেনে নিয়েই তিনি বলেন, রাজ্য সরকার যদি পলি কাটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে নিশ্চয়ই কেন্দ্র বাধা দেবে না। কিন্তু সে সদিচ্ছা তাদের নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.