নদিয়া: মৃত এক মহিলার দুটি চোখ ও দেহের অঙ্গ প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালী থানার শেনপুর শ্যামনগর পাড়া এলাকায়। মৃত মহিলার নাম রাবেয়া বিবি। অভিযোগ রাবেয়া বিবির তিন ছেলে তারা মাকে দেখভাল করত না। এমন কি মা বলেও পরিচয় দিত না। গত রবিবার সকালে রাবেয়া বিবি মারা যায় বলে জানায় তার ছেলে। মারা যাওয়ার পর একটি গাড়ি করে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় চিকিৎসক এসে তার মায়ের চক্ষু নাকি নিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা খবর নিয়ে জানতে পারে এর আগে অঙ্গ বা চক্ষু দান করার কোন অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন না মৃত রাবেয়া বিবি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে চিকিৎসকের দল বাড়িতে এসে মৃত মহিলার চক্ষু খুলে নিয়ে গেছে। গ্রাম বাসীদের আরও ধারণা শুধু চক্ষু নয় তার দেহের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্য জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায়। এরপর পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে এবং আজ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ মৃত মহিলার তিন সন্তান এতদিন মায়ের সাথে কোন রকম যোগাযোগ রাখত না হঠাৎ করে কিভাবে মায়ের মৃত্যু হল এবং মৃত্যুর পরে তার দেহের অঙ্গ কোন সংস্থাকে দিয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও মৃত রাবেয়া বিবির তিন ছেলে আমির চাঁদ শেখ, আব্দুল শেখ ও সাব্দুল শেখ রাবেয়া বিবির অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কাদের কাছে এবং কাদের মাধ্যমে বিক্রি করেছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সাথে মৃত মহিলা সন্তানরা যে সংস্থার কাগজপত্র দেখাচ্ছে, তার বৈধ সত্যতা কতটা তারও তদন্তের আর্জি জানিয়েছে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ প্রশাসনের কাছে। ঘটনার পর ইতিমধ্যেই পুলিশ ওই ব্যক্তির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সহ ওমর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।যদিও এ বিষয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সম্ভব জৈন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যেই পুলিশ একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। আজ মৃতদেহটি ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে তারপর সবকিছু জানা যাবে। এছাড়া বাড়ির লোক তার চক্ষু দানের কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছে সেগুলো আমরা যাচাই করছি।
