নদিয়া: মোবাইলে আইডি গেম খেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হার, জুয়ো খেলায় আসক্ত হয়ে অবশেষে অঘোরে প্রাণ গেল বয়স কুড়ির যুবকের। এদিন লিচু বাগান থেকে তার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নৃসিংহপুর লিচুবাগান এলাকায়। মৃত ওই যুবকের নাম সুরজিৎ হালদার। বাবা দিনমজুরের কাজ করে। ওই যুবকের মা নিজেও ধান শুকানোর কাজ করে। কোন রকম ভাবে সংসার চলে তাদের। কিন্তু সুরজিৎ হালদার হঠাৎ মোবাইলে আইডি খেলা শুরু করে। সেখানে হাজার হাজার টাকার জুয়া খেলত সে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খেলায় আসক্ত হয়ে ওঠে। তার পরিবারের দাবি এর আগেও কয়েক দফায় হাজার হাজার টাকা সে বাড়িতে থেকে নিয়ে হারের টাকা শোধ করত। তার মা নিজে জানান জুয়া খেলায় হেরে গিয়ে বাড়ি থেকে সে টাকা নিয়ে যেত। সেই সঙ্গে মাঝেমধ্যে কখনো ৫০০ টাকা কখনো হাজার টাকা নিয়ে যেত সে। রবিবার স্নান করার নাম করে বাড়ি থেকে বার হয়ে। তারপর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। কাল সারাদিন এবং সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। আজ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি লিচু বাগানের মধ্যে তার দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে এলাকার চাষীরা। এরপরে খবর জানাজানি হতে এলাকায় ভিড় জমে। খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে প্রথমে হাসপাতাল তারপরে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই সে জুয়া খেলায় আসক্ত ছিল। বারবার বললেও সে শোনেনি। তবে নগদ টাকা কার কাছে দিয়ে আসতো তা পরিবারের কেউ জানে না। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য জানান জুও খেলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। তিনি চাইছেন প্রশাসন তদন্ত করুক এই জুয়া খেলার সঙ্গে আর কারা যুক্ত। এবং তাদের চিহ্নিত করে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে দিনের পর দিন জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে একটি যুবকের তরতাজা প্রাণ চলে গেল। কেন খবর ছিলনা পুলিশের কাছে? কেনই বা পুলিশ জানতো না তার থানা এলাকায় এইভাবে জুয়া খেলা চলে? নাকি জেনে শুনে পুলিশের মদতেই রমরমে চলে এই মোবাইলের অনলাইন জুয়া, কুড়ি বছরের যুবকের মৃত্যুতে নতুন করে বিতর্কের দানা বেধেছে।
