ঘুড়ি ওড়ানোর নাইলন সুতোয় গলা কেটে গেলো এক যুবক এবং এক শিশুর,প্রতিবাদে সরব গোটা শান্তিপুর

নদীয়া: সদ্যই শেষ হয়েছে সোজা রথ, উল্টোরথ আসছে! রথের আগে ও পরে এই এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনায় ভাসে শান্তিপুর সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা। বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমদানি হয়েছে ঝঞ্ঝাটমুক্ত বিনামাঞ্জার নাইলন সুতোর। দামে একটু বেশি হলেও, সহজে পচনশীল নয় এই সুতো। যা ঘরে রেখে দেওয়া যায় বহুদিন যাবৎ। অন্যদিকে মাঞ্জা দেওয়ার শ্রম বা সময় লাভ হয় ঘুড়ি প্রেমীদের, স্বভাবতই সাবেকি সুতির সুতো কে দূরে সরিয়ে একচেটিয়া বাজার দখল করেছে তীক্ষ্ণ ধার যুক্ত অত্যাধিক শক্ত নাইলন সুতো।

এই নাইলনের সুতোই যেখানে সমাজের একাংশের কাছে আনন্দের তেমনিই সমাজের একাংশের নিরানন্দের কারণও বটে। যথেচ্ছ এবং ‌একচেটিয়া ব্যবহারের ফলে রাস্তাঘাট, বাগান সহ প্রায় সর্বত্রই যত্র তত্র পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে এই সুতো। ক্রমেই তা প্রভাব বিস্তার করেছে মনুষ্যসমাজেও।

গত ১১ জুলাই রথের আগের দিন শান্তিপুরে ভগবতী দাস রোডে এক পাঁচ বছরের শিশুর স্থানীয় একটি মাঠে কেটে যাওয়া ঘুরি ধরতে গিয়ে পা কেটে রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ওই ছেলেটির পায়ে তিনটি সেলাই পড়ে। জানা যায় কেটে যাওয়া ওই ঘুড়ি ধরতে গিয়ে অন্য আরও দুজনের সাথে টানাটানিতে তার পা কাটে। এবার ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল গতকাল। বুধবার সন্ধ্যে ছটা নাগাদ শান্তিপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষীতলা পাড়ার ১৮ বছর বয়সি এক যুবক স্কুটি চালিয়ে শান্তিপুর জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পথে, রাস্তার উপরে গাছের থেকে ঝুলতে থাকা নাইলন সুতো তার গলায় বাঁধে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে প্রথমে শান্তিপুর হাঁসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ওই যুবককে। এই ঘটনার কয়েক মিনিটের ব্যবধানে গোপাল পুরের বাসিন্দা শামীম শেখ তার সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ঘুরতে নিয়ে বেরিয়েছিলেন মোটরসাইকেলের সামনে বসিয়ে। বাড়ি ফেরার পথে শান্তিপুরের ভদ্রকালী এলাকায় হঠাৎ একটি ঝুলন্ত নাইলন সুতোর শেষ অংশ জড়িয়ে যায় তার শিশুর গলায়। হাত দিয়ে ছেলের গলায় জড়ানো সুতো সরানোর চেষ্টা করলে তারও হাত কেটে যায়। ক্ষণিকের মধ্যে শিশুটির গলা রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। জানা গিয়েছে শিশুটির গলায় ৬ টি সেলাই পড়েছে।


এই ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপুরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সহৃদয় মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়! বেশিরভাগের প্রশ্ন একটাই, গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার কারণে যেখানে ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য, কৃষকের ফসল নিয়ে যেতে পারছেন না,সেখানে কোথা থেকে আসছে এত সুতো? এত পরিমাণে সুতো বিক্রিও হয়েছে প্রকাশ্যেই! থানার পক্ষ থেকে সামান্য মাইকিং এবং দু-একজন নাইলন সুতা বিক্রেতাকে ধরপাকড় এবং ক্ষণিকের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া এতেই কি নিয়ন্ত্রণ হবে আগামীর দুর্ঘটনা?

দুর্ঘটনা কবলিত প্রত্যেকেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শান্তিপুর থানায়। তা সত্ত্বেও,পুলিশের উদাসীনতা এবং গাফিলতিকেই দায়ী করছেন সুশীল সমাজ। নিন্দার ঝড় গোটা শান্তিপুর জুড়ে।

উল্লেখ্য, গতবছরই নদীয়ার শান্তিপুরে ঘুড়ি ওড়ানোর এই নাইলনের সুতোয় কেটে গিয়েছেন একজনের কানের অংশ,অন্য একজনেরও আঙ্গুল কেটে যায় এই সুতোয়। তাতেই থেমে থাকেনি এর ব্যবহার। এবছরও ওই নাইলনের সুতোই ব্যাবহার করে ঘুড়ি ওড়ানো শুরু হয়। রাস্তায় ঝুলতে থাকা থাকা নাইলন সুতোয় ঘোড়ালিয়ার এক মাঝবয়সী কৃষকের ঠোঁট কেটে ঝুলে যায়। তেরোটি সেলাই নিয়ে দীর্ঘ মাস কষ্ট ভোগ করে এখন অবশ্য কিছুটা সুস্থতার দিকে ওই ব্যক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.