চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ কৃষ্ণনগর বেসরকারি নার্সিং হোমের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

নদীয়া: হাঁসখালি থানার ইটাবেরী গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বিবি বিশ্বাস বয়স ষাটের উর্দ্ধ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গলব্লাডারের স্টোন এর সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন। বারংবার সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র গেলেও সঠিক চিকিৎসা না মেলার আশঙ্কায় বেসরকারি নার্সিং হোমের দ্বারস্থ হন। গত মাসের ২৯ তারিখে কৃষ্ণনগরে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হন,তার পরেই সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয় পেটে। চিকিৎসকের গাফিলতিতে অপারেশনের সময় গজ ব্যান্ডেজ গোটাটাই পেটের মধ্যে থেকে যায়। চিকিৎসক ভুল করে সেলাই করে ফেলেন পেট। তার কিছুদিন পরেই রোগীকে নার্সিংহোম থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সমস্যা দেখা দেয় বাড়িতে গিয়ে। ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়েন রোগী। রোগীর এলাকারই কো- ওয়াক চিকিৎসক প্রতিদিনই ড্রেসিং করেন রহিমা বিবি বিশ্বাসকে । দিনের-পর-দিন অপারেশনের জায়গায় ক্ষত ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে একাধিক মেডিসিন পরিবর্তন করেন চিকিৎসক তাতেও কোনো সুফল মেলেনা। ক্রমশই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আজ সকালে ড্রেসিং করতে গিয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের বিষয়টি নজরে আসে।বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ জানানো হয় ওই বেসরকারি নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষকে। অভিযোগ পেয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ রীতিমতো চমকানো এবং ধমকানো শুরু করেন রোগীর পরিবারকে। এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভরসা উঠে যাচ্ছে চিকিৎসকদের উপর থেকে।তবে এই চিকিৎসায় গাফিলতির ঘটনা নতুন নয়।জেলার প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। নদীয়া জেলার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারেও অনেকটাই ভরসা হারাচ্ছেন রোগীর আত্মীয়রা। কৃষ্ণনগর সহ নদীয়া জেলার একাধিক হসপিটালের চিত্র এখন একই। ভরসা না পেয়ে রোগীকে স্থানান্তরিত করে বেসরকারি হসপিটালে বাঁচানোর তাগিদে নিয়ে যাচ্ছেন রোগীর পরিবার। সেই ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যায় পড়ছেন রোগীর আত্মীয় পরিবারবর্গ।

রাজ্য সরকার বারংবার বলছেন জেলার প্রতিটি হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে। কিন্তু সেই উন্নত পরিষেবা কোথায়? হয়রানি হতে হচ্ছে রোগী এবং রোগীর পরিবার কে। বারংবার প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে। সাধারণ খেটে খাওয়া দরিদ্র অসহায় পরিবারের মানুষগুলো আজ বড় সমস্যায় পড়ছেন স্বাস্থ্যপরিসেবা নিয়ে। যদিও আজ ওই চিকিৎসক ও বেসরকারি নার্সিংহোম এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রোগীর পরিবার। এখন দেখার কতটা প্রশাসনিক সহযোগিতা পাবেন ওই রোগীর পরিবার। এদিনের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.