নদিয়া: সদ্যজাত চুরির অভিযোগে উত্তেজনা কৃষ্ণনগর জেলা সদর হাসপাতালে। চিকিৎসকের দাবি,ফ্যান্টম প্রেগন্যান্সি। গত দশ মাস ধরে গর্ভবতী থাকার পর প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে কৃষ্ণনগর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নবদ্বীপ ব্লকের চরকাষ্ঠশালীর বাসিন্দা মাম্পি খাতুন। পরিবারের দাবি, প্রসবের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় তার গর্ভে কোনো শিশু ছিল না। সদ্যজাতকে চুরির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে প্রসূতির পরিবারের লোকজন।
পরিবারের দাবি, প্রায় দশ মাস ধরে গর্ভবতী ছিলেন মাম্পি খাতুন। নিয়মিত তিনি জেলা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২৮ জানুয়ারি তাঁর প্রসবের সম্ভাব্য দিন ধার্য ছিল। প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে এদিন সকালেই তাঁকে কৃষ্ণনগর জেলা সদর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ, দুপুর নাগাদ তিনি সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু পরে পরিবারের লোকজনকে জানানো হয়, তাঁর গর্ভে আদৌ কোনো সন্তানই ছিল না। এই কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। সদ্যজাতকে দেখতে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, সদ্যজাত সন্তানকে চুরি করা হয়েছে। এই দাবি তুলে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যদিও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের দাবি, ওই যুবতী আদৌ গর্ভবতী ছিলেন না। চিকিৎসকদের মতে, তিনি মানসিকভাবে নিজেকে গর্ভবতী বলে মনে করছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ফ্যান্টম প্রেগন্যান্সি’।ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
