প্রখর রোদে জল না পেয়ে মারা গেল বছর পাঁচেকের এক নিরীহ শিশু

নদীয়া নিউজ ২৪ ডিজিটাল: প্রখর রোদে জলের অভাবে প্রাণ গেল বছর পাঁচেকের এক নিরীহ শিশুর । একইসঙ্গে জল না পাওয়ার ফলে জ্ঞান হারিয়েছেন শিশুটির দিদিমাও । ঘটনাটি রাজস্থানের জালোর জেলার রানীওয়াড়া এলাকার । গত রবিবার দুপুরে ওই এলাকার তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪৫ ডিগ্রি । সেদিনের ওই প্রবল রোদ এবং গরমে একটু জল পায়নি অঞ্জলি নামের ছোট্ট শিশু কন্যাটি। আর তার জেরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।অঞ্জলির ঠাকুমা সুখীদেবীকেও তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি সেই সময় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিলেন। স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর ওই মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা গিয়েছে বছর ৬০-এর সুখীদেবী তাঁর নানতি অঞ্জলীকে নিয়ে নিজের বাড়ি যাচ্ছিলেন। করোনাকালে বিধিনিষেধের কারণে কোনও যানবাহন পাননি তাঁরা। যার জেরে হেঁটেই নাতনিকে নিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সুখীদেবী। প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার হাঁটার পর অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। একইসঙ্গে তাঁরা ব্যাপক তৃষ্ণার্তও ছিলেন। প্রখর রোদে জলের অভাবে বেহাল হয়ে পড়ে দুজনের শরীর। আর শেষ পর্যন্ত সেই জলের অভাবেই রোড়া (Rora) গ্রামের পাশে মৃত্যু হয় ছোট্ট অঞ্জলির। তার পাশেই পড়ে থাকেন সুখীদেবী। তবে করোনা এবং প্রবল দাবদাহের কারণে গোটা এলাকা সেসময় জনশূণ্য ছিল। যে কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার অনেক পরে স্থানীয়দের নজরে আসে দুজনে। আর যখন তাদের নজরে আসে, ততক্ষণে শেষ হয়ে গিয়েছিল অঞ্জলির জীবন।

সরকার পক্ষ দাবি করছে উন্নয়ন প্রগতির পথে এগোচ্ছে দেশ,তবুও এমন কিছু ঘটনা থাকে যা রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দেয় আদেও কতটা এগিয়েছি আমরা ?

ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ট্যুইটে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী প্রকাশ জাওড়েকড় প্রশ্ন তুলেছেন, ‘৯ ঘণ্টা জল না পেয়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর জন্য দায়ী রাজস্থান সরকার। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা এখন চুপ কেন?’

Leave a Reply

Your email address will not be published.