“কি করব তা এখন ভাবতে পারছি না”বিধায়কের মাস মাইনের কথা শুনে চক্ষু চড়কগাছ শালতোড়ার চন্দনা বাউড়ির

নদীয়া নিউজ ২৪ ডিজিটাল: বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পর্যদুস্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির। তাঁর মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে জয়লাভ করে বাঁকুড়ার শালতোড়ার চন্দনা বাউড়ি (Chandana Bauri) সবার নজর কেড়েছেন। বিজেপির বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পরই সবথেকে বেশি চর্চা হয়েছিল বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরিকে নিয়ে। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রিকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। নির্বাচনে জয়লাভ করে বিধায়কও হয়েছেন তিনি ।

বিধায়ক হওয়ার পর প্রথমবারের জন্য বিধানসভা গিয়েছিলেন শপথ নেওয়ার দিন,এর পর লকডাউনের কারনে আর যাওয়া হয়নি বিধানসভায় । তবে ভোটে জিতলেও রাজনীতি সম্বন্ধে তার খুব একটা ধারণা নেই। আর তাই একজন বিধায়ক কত টাকা বেতন পায় সেটা তিনি জানতেন না। 

সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি জানালেন, বিধায়ক হিসেবে মাসে কত টাকা মাইনে পাবেন তা এখনও পর্যন্ত তিনি জানেন না। সাংবাদিকের কাছে ঘুরিয়েই তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কত টাকা মাইনে পাব?’ সাংবাদিক জানান- মাসে প্রায় ৮২ হাজার টাকা পান একজন বিধায়ক। তবে শপথ নেওয়ার দিন থেকে শুরু করে যদি জুন মাসের মধ্যে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে যায়, তাহলে প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি টাকা পাবেন তিনি। আর তা শুনেই আকাশ থেকে পড়েন চন্দনা বাউড়ি ।

এত কিছুর মাঝেও নিজের জন্য কিছুই ভাবেননি তিনি । তাঁর কথায়, ‘কি করব তা এখন ভাবতে পারছি না। তবে মানুষের যাতে ভালো হয়, এমন কিছু করব। অত টাকা তো আর আমাদের লাগবে না, তাই মানুষের কাজে লাগাব। আমার গাড়ির দরকার নেই। অনেক দাম। স্বামীর মোটর সাইকেল আছে তো, ওতেই হয়ে যাবে’।

এমনকি দারিদ্রতার কারণে বাড়িতে টিভি না থাকায় নিজের প্রার্থী হওয়ার খবর পাশের বাড়ির থেকে পেয়েছিলেন চন্দনা। তবে এখন মাইনের কথা শুনেও নিজের জন্য একটা টিভি কেনার প্রয়োজন মনে করলেন না বিজেপি বিধায়ক। তাঁর কথায়, ‘ভোটের আগেই একটা মোবাইল কিনেছি। আর ওটাতেই ভালো টিভি দেখা যায়’।

বিজেপির অনেক তারকা প্রার্থী হেরে গেলেও জিতেছেন চন্দনা। বহুবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন রাজ্যের সর্বাধিক দরিদ্র প্রার্থী চন্দনার নাম। প্রথম থেকেই যেভাবে তিনি প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন, তা নজরকাড়ার মত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.