নদিয়া: যে আন্দোলনকে ঘিরে আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী সেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের আরও এক মূল কান্ডারী প্রয়াত হলেন। ঘটনাটি হয়তো অনেকেরই অজানা। সালটা ছিল ১৯৯৩ । তৎকালীন বাম আমলের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর কাছে শান্তিপুরের ধর্ষিতা মুক ও বধির মেয়ের মা ফেলানি বসাককে নিয়ে সোজা রাইটার্সে চলে গিয়েছিলেন বিচার চাইতে। সঙ্গে সেদিন ছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং শান্তিপুরের রিক্তা কুন্ডু। ধর্ষিতা মুখ্য বধির মেয়ের বিচার চাইতে গিয়ে রাইটার্স থেকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিচড়ে নামিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন বাম আমলের পুলিশ। সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্সের অলিন্দে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন যেদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ঢুকবো মাথা উঁচু করে ঢুকবো। তার আগে লালবাড়ির সীমানাতে তিনি পা রাখবেন না। সেদিন ধর্ষিতা বোবা মেয়ের বিচার পাননি শান্তিপুরের ফুলিয়ার ফেলানি বসাক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে সিঙ্গুরে ও আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল ফেলানি বসাক। অবশেষে ৮০ বছর বয়সে দীর্ঘ রোগভোগে বার্ধক্য জনিত কারণে মৃত্যু হয় ফেলানি বসাকের। ফেলানি বসাকের আক্ষেপ ছিল মুখ্যমন্ত্রী তার সাথে বোধহয় একবার না একবার দেখা করতে আসবেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হবার পর তিনি আসতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তার দেখা করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু শারীরিক অবস্থার জন্য সে ইচ্ছাও পূরণ হয়নি ফেলানি বসাকের। এদিন ফেলানি বসাককে সে শ্রদ্ধা জানাতে যান শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী, শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুব্রত সরকার সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
