নদিয়া: ছেলে মেয়ে সহ ৭ জনের মধ্যে ৬ জনেরই নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নেই। আতঙ্কে ভুগছিলেন কিছুদিন ধরেই। হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বারিছন সেখ(৭০) নামে এক মহিলার। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, নদিয়ার চাপড়া থানার হাটরা গ্রামে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সমস্ত নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের সাপলিমেন্টারি তালিকায় নাম ওঠেনি বারিছন সেখ সাহ তার পরিবারের মোট ৬ জনের। সাপ্লিমেন্টারি চূড়ান্ত তালিকায় নাম না ওঠার পর থেকেই তিনি দুশ্চিন্তা করতে শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে খাওয়া দাওয়া না করেই তিনি শুয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে তেহট্ট মহকুমার হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে প্রতিবেশী লালন শেখ বলেন,২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু এবার এস আই আর সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তার নাম ওঠেনি। এ নিয়ে ক্রমশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।পরিবারের অভিযোগ, এস আই আর আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।মৃতের দেওর হেকমত সেখ বলেন, এস আই আর এর পরে ভোটার লিস্টে প্রথম থেকেই নাম বাদ চলে গিয়েছিল বিচারাধীন তালিকায়। এরপর সমস্ত নথি পুনরায় জমা করা হয়। তারপর চুড়ান্ত তালিকায় নাম ডিলিট হয়ে যায়। এটা জানতে পেরে মর্মাহত হয়ে পড়েন। ওঁর নাম ২০০২ সালেও ছিল। প্রতিবার ভোট দিয়েছেন। উনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন।নাম ডিলিট হওয়ার পরই ভয়ে এবং আতঙ্কে মারা গেছেন। উনি প্রতিটা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। চাপড়া বিধানসভার ৫৪ বুথের বিএলও মহাদেব সাহা বলেন,আমার প্রতিবেশী বারিছন সেখ সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নামও ছিল কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ওই পরিবারের ৬ জনের নাম ডিলিট হওয়ার কারণে আতঙ্কে ভুগছিল। হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মৃত্যু হয়।
আবারো এস আই আর আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধার।
