নদিয়া: রাতের অন্ধকারে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য তথা বিরোধী দলনেতার বাড়ি ও তাঁত মেশিন ঘরে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা সকলের। প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি বলে দাবি। অভিযোগের তীর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গবারচর এলাকায়। জানা যায়, গোবারচর এলাকার বাসিন্দা পবিত্র বিশ্বাস। তিনি বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির বিরোধী দল নেতা।
তার অভিযোগ যেহেতু তিনি বিজেপি করে সেই কারণে এর আগেও তার ওপর এবং তার পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। দিন কয়েক আগেই তৃণমূলের কয়েকজন দুষ্কৃতীরা তার বাড়িতে চড়াও হয়। মঙ্গলবার ভোরবেলা হঠাৎ আগুন লাগার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার তাতের গোডাউনে আগুন লেগেছে। আগুন নেভানোর আগেই সম্পূর্ণ কারখানা ভস্মীভূত হয়ে যায়। কারখানায় দুটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল সেগুলো আগুনে পুড়ে যায়।
এ বিষয়ে পবিত্র বিশ্বাস বলেন, আমরা যখন ঘুম থেকে উঠে দেখি আগুন লেগেছে ঠিক তখন পেট্রোলের গন্ধ পাই সেখান থেকে। আমাদের অনুমান তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের একটাই অপরাধ যেহেতু আমরা বিজেপি করি। এ বিষয়ে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, এই এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাছে বন্দুক বোমা মজুদ রয়েছে।। প্রশাসন সব জেনেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আমরা ২৪ ঘন্টা সময় দিচ্ছি যদি দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার না হয় তাহলে গোটা শান্তিপুর ক্ষোভের আগুনে জ্বলবে। আর কিভাবে রাস্তায় নামতে হয় আমরা দেখিয়ে দেব।
যদিও বিজেপির তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন তৃণমূল। এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা বৃন্দাবন প্রামাণিক কে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই তৃণমূল জড়িত নয়। বিজেপির কাজ শুধু দাঙ্গা লাগানো, আর আগুন লাগানো। বিজেপির কোন হুমকিতে তৃণমূল ভয় পায় না। বিজেপি আগুন লাগাতে চাইলে সেটা কিভাবে নেভাতে হয় তা তৃণমূল জানে। আগুন লাগার ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আসে শান্তিপুর থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা যায়নি।
