নদিয়া: কৃষ্ণনগর পৌরসভার কোষাগারের হাল ফেরাতে এবার উদ্যোগী হল সদর মহকুমা শাসক তথা কৃষ্ণনগর পৌরসভার বর্তমান পৌর প্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী। অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে কাজ করলেই মিলবে মজুরি। এবার ছুটির দিনে আর মজুরির টাকা দেওয়া হবে। আজ অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হতে তুলেছে বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর পৌরসভার সমস্ত দফতরে এই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষ্ণনগর পুরসভার কোষাগারের অবস্থা ভালো নয়। বিগত ১০ মাস ধরে রাজস্ব সেভাবে আদায় না হওয়াতে পৌরসভার নিজস্ব কোষাগারে তেমন কোনো অর্থ নেই। কৃষ্ণনগর পুরসভার দীর্ঘদিন দিন ধরে একাধিক সমস্যা রয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত কৃষ্ণনগর পৌরসভায় বেশ কয়েক মাস ধরেই কাউন্সিলরদের মধ্যে নিজেদের অন্তদ্বন্দ্বে চলছে টাল মাটাল পরিস্থিতি।
এমন পরিস্থিতিতে অচলাবস্থাও দেখা দেয়। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহরে পুর পরিষেবা ভেঙে পড়ায় কৃষ্ণ নাগরিকরা প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। শহরের এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসন একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে দলীয় কাউন্সিলরদের আলোচনার জন্য কলকাতায় ডাকা হয়েছিল। কিন্তু কোন সমাধান সুত্র বের না হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
অনেক কিছুর পর অবশেষে অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান হিসেবে নরেশ দাস কে পৌরসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সেই বোর্ড ভেঙে রাজ্য সরকার কৃষ্ণনগর সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরীকে পুরসভার প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করেন। বর্তমানে তিনিই পৌরসভার সমস্ত কাজ করছেন। কৃষ্ণনগর পৌরসভার পৌর প্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী পৌরসভার হাল ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগী হন। সূত্র মারফৎ খবর, কৃষ্ণনগর পুরসভায় প্রায় ৩০০ অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
বর্তমানে কৃষ্ণনগর পৌরসভার সমস্ত বিভাগে মোট কর্মীর সংখ্যা ১৩২৬ জন। স্থায়ী শুধুমাত্র ২৯১ জন। বাকি কর্মী সকলেই অস্থায়ী। একাধিকবার অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ে প্রশ্ন ও উঠছে। এই সমস্ত কর্মীদের কারা কিভাবে নিয়োগ করেছিল? কৃষ্ণনগর পুরসভায় অসীম কুমার সাহা চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিয়োগ দূর্নীতি নিয়ে সিবিআই তদন্ত হয়েছে। অস্থায়ী কর্মীরা কাজ না করেও বেতন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।গত ১০ মাস ধরে সেভাবে রাজস্ব আদায় হয়নি কৃষ্ণনগর পৌরসভায়।
তারপরেও সেভিংস থেকেই স্টাফদের বেতন দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় বর্তমানে পুরসভার কোষাগারের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। আয়ের ক্ষেত্রে ব্যয় হচ্ছে বেশি।ঠিক সেই সমযয়ে কৃষ্ণনগর পুরসভার পুরপ্রশাসক এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে। কাজ করলে মিলবে মজুরি, ছুটির দিনে আর মজুরী নয়। কৃষ্ণনগর পুরসভার ক্যাসুয়াল কর্মীরা ৩১ দিনের বেতন পান।
অথচ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় কোথাও ২২ কোথাও আবার ২৪ দিনের মজুরি দেওয়া হয়ে থাকে অস্থায়ী কর্মীদের। প্রতি মাসে পুরসভার কর্মীদের মাসের বেতন দিতে প্রয়োজন হয় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। এদের মধ্যে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ৬৬ লক্ষ টাকা। অস্থায়ী কর্মীদের মজুরী সম্পূর্ণটাই পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্যয় কমাতে এগিয়ে এসেছেন সদর মহকুমাশাসক তথা পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী। কৃষ্ণনগর পৌরসভার হাল ফেরাতে নতুনভাবে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি।
এ নিয়ে সদর মহকুমাশাসক ও পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী জানিয়েছেন, অস্থায়ী কর্মীদের ৩১ দিনের মজুরী বা বেতন কোথাও হয় না। শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর পৌরসভাতেই দেওয়া হচ্ছিল। পৌরসভার কোষাগারের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এই বিষয়টি নজরে আসতেই পৌরসভার নিজস্ব কোষাগারের হাল ফেরাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর গোটা প্রক্রিয়াটা পৌর আইন বা সরকারি যে সমস্ত নিয়ম কানুন রয়েছে,তা মেনেই করা হচ্ছে।
