নদিয়া: বাড়িতে কেউ থাকুক আর নাইবা থাকুক! আগুন জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই কাছাকাছি অথচ হঠাৎ হঠাৎই ঘরের মধ্যে জ্বলে উঠছে আগুন! কখনো গৃহকর্তী বুঝতে পারছেন কখনো বা তার নাবালক ছেলে তারা গিয়ে তড়িঘড়ি তা নিভিয়ে ফেলছেন গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৫ বার কখনো জ্বলেছে টেবিল ফ্যানের মোড়ানো প্লাস্টিক, কখনো জানালার পর্দা কখনো বা আলমারির পর্দা! কখনো আবার খাটের জাজিম। দুশ্চিন্তায় ঘুম উঠেছে শিকেয়। আর এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চৌরাস্তা এলাকার দেবাশীষ পাত্রের পরিবারে। বাড়িতে সদস্য বলতে স্ত্রী শ্যামলী পাত্র এবং বছর দশকের এক নাবালক পুত্র। দেবাশিস বাবু কাজ করেন একটি দোকানে। তাই সারাদিন প্রায় বাড়ি থাকেন না বললেই চলে। শ্যামলী পাত্র স্থানীয় একটি স্কুলে মিড ডে মিলের রাধুনী হিসেবে কাজ করেন। এ ধরনের অলৌকিক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি তার সংসারে। তবে বুধবার থেকে কি এমন হলো? ঘরের একের পর এক জিনিসে হঠাৎ হঠাৎ আগুন লেগে যাচ্ছে। ভেবেও ফুলকিনারা পাচ্ছেন না তারা। কি কারনে এই অগ্নিকাণ্ড। যার পেছনে কোন কারনই খুঁজে পাচ্ছেন না গোটা পরিবার। এমন অলৌকিক ঘটনায় যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় রয়েছেন । ফোনে গোটা ঘটনাটি জানিয়েছিলেন তার গুরুদেবকে। গুরুদেবের নিদান অনুযায়ী সারা ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে, রেখেছিলেন রাতে। তবে রাত কাটার পর আজ সকালেও শান্তি নেই। বেলা বারোটার মধ্যে ঘরের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় আবারো জ্বলে উঠছে আগুন। এমন কি আগুন নেভাতে গিয়ে তার হাত পুড়ে গেছে। যেখানে যেখানে আগুন লেগেছে সেই পোড়া অংশগুলোও স্পষ্ট রয়েছে এখনো। তবে প্রথমে ভেবেছিলেন নাবালক ছেলে খেলার ছলে হয়তো এমন কান্ড ঘটাতে পারে। কিন্তু ছেলেকে নিয়ে বাইরে থাকার পরেও একই চিত্র বারবার ফুটে উঠছে। কারণ ছেলে কিংবা তিনি যখন বাড়ি থাকছেন না তখনও দরজা খুলে দেখছেন ঘরে আগুন। আবার আতস কাঁচ কিংবা সূর্যের প্রখর তাপে কোনভাবে আগুন লাগছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তরও মিলছে না। সন্ধ্যে কিংবা রাত্রিতেও ধরছে আগুন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় সেই বাড়িতে ধূমপানের অভ্যাস কারোর না থাকার কারণে দেশলাই নেই। আজ সকালে দুশ্চিন্তায় রান্নার গ্যাস পর্যন্ত স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও নিস্তার নেই বর্তমানে ওই গৃহবধূ কোতোয়ালি থানা এবং স্থানীয় বিজ্ঞান ক্লাবের সাথে যোগাযোগ করছেন।
বর্তমান বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে এ ধরনের ঘটনা আদৌ কি কারণ তারই উত্তর পেতে সকলেই রয়েছে প্রতীক্ষায়। তবে পরিবারের কাজকর্ম উঠেছে শিকেয়, অন্যদিকে আত্মীয় পরিজন প্রতিবেশীরা আগ্রহবশত ভিড় জমাচ্ছেন বাড়িতে অলৌকিক অগ্নিকাণ্ড দেখতে।।
