নদিয়া: কাশ্মীরের টিউলিপ ফুল এবার নদিয়ার মাটিতে ফুটিয়ে নজির গড়লেন এক যুবক। নদিয়ার শান্তিপুর ফুলিয়া চটকা তলার বাসিন্দা অভিনব বসাক পেশায় একজন তন্তুজীবী। এই যুবকের হাত ধরেই কাশ্মীর ও নেদারল্যান্ডসের পরিচিত টিউলিপ ফুল এখন দেখা যাচ্ছে নদিয়ার মাটিতে। টিউলিপ ফুলের আদি নিবাস নেদারল্যান্ডস। এছাড়াও ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য কাশ্মীরেই মূলত এই ফুলের দেখা মেলে।
অভিনব বসাক জানান, গত বছর কর্মসূত্রে দিল্লিতে গিয়ে তিনি টিউলিপ ফুল প্রথম কাছ থেকে দেখেন। সেই সময়ই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, দিল্লিতে যদি এই ফুল ফোটানো সম্ভব হয়, তবে নদিয়ার মাটিতে কেন নয়? এই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোগী হন তিনি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনলাইনের মাধ্যমে তিনি ১২৫টি টিউলিপ বাল্ব অর্ডার করেন। সঠিক নিয়ম মেনে পরিচর্যার ফলেই মাত্র ৩২ দিনের মাথায় গাছে ফুল ফোটাতে সক্ষম হন অভিনব।
যদিও টিউলিপ চাষের জন্য নির্দিষ্ট জলবায়ু ও যত্নের প্রয়োজন, তবুও প্রতিদিন গুগলের সাহায্য নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা করে সময় দিয়ে গাছগুলোর পরিচর্যা করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ১৮টি গাছে ফুল ফুটেছে। তিন রঙের টিউলিপ গাছ লাগানো হলেও এখনও পর্যন্ত সাদা রঙের ফুলই ফুটেছে। অভিনবের বাবা বীরেন কুমার বসাক কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সেই কাজে সাহায্য করার পাশাপাশি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই গাছের যত্ন নিতেন তিনি।
অভিনবদের বাড়িতে ঢুকলেই মনে হয় যেন এক সবুজ গাছবাড়ি। ফুল, ফল এবং নানা ধরনের বাহারি পাতাবাহার গাছে সাজানো বাড়ির পরিবেশ। অভিনব নিজেই বলেন, তাঁর খুব একটা গাছ বা ফুলের শখ না থাকলেও টিউলিপ ফোটানোর চ্যালেঞ্জ তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। আজ এই সাফল্যের ফলে একদিকে যেমন অভিনব বসাকের মুখে হাসি ফুটেছে, তেমনই কাশ্মীরের টিউলিপ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের কথায়, এখন টিউলিপ দেখতে কাশ্মীর নয়, এলেই হবে নদিয়ার ফুলিয়ার বসাকবাড়িতে।
