নিজস্ব প্রতিবেদন, কৃষ্ণনগর: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কন্যাসন্তানের প্রতি সামাজিক অবজ্ঞা ও নিষ্ঠুরতার এক মর্মান্তিক নিদৰ্শন দেখল নদিয়ার কৃষ্ণনগর। বৃহস্পতিবার রাতে কৃষ্ণনগর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় এক শিশুকন্যাকে রাস্তার ধারে ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায় তার পরিজনেরা। তবে মানুষের এই চরম অমানবিকতার মাঝেও অনন্য সংবেদনশীলতার পরিচয় দিল একদল পথকুকুর। ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকা অসহায় শিশুটিকে কামড়ানো বা ক্ষতি করা তো দূরস্ত, বরং চারটি কুকুর মিলে তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখে কার্যত ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করছিল। তাদের অস্বাভাবিক চিৎকার এবং বারবার ঝোপের ভিতর যাতায়াত করার দৃশ্য নজর কাড়ে এক টোটোচালকের। নবদ্বীপ থেকে যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে ওই চালক কুকুরের কান্নার আওয়াজ লক্ষ্য করে এগিয়ে যেতেই ঝোপের মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। ওই চালকের তৎপরতায় এবং অবলা প্রাণীদের পাহারায় শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় একরত্তি শিশুটি।
উদ্ধার করার পর চালক শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে পরিবারের সহায়তায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় খবর দেন। উদ্ধারকারী পরিবারের সদস্য মিনু ভৌমিক এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, যেখানে মা-বাবা নিজের সন্তানকে এভাবে ফেলে যেতে পারে, সেখানে কুকুরগুলোর এই আচরণ সমাজের কাছে এক বড় শিক্ষা। বর্তমানে শিশুটিকে চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে একটি সরকারি হোমে রাখা হয়েছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল জানিয়েছেন, শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সুস্থ রয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নারী ও শিশু সুরক্ষা দপ্তর বর্তমানে শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে।
